আজ আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার কুলিয়া গ্রামের এক অসহায় ও অবহেলিত মানুষের কাছে। সমাজের চোখের আড়ালে থাকা এই বোনটির জীবনের গল্প শুনলে সত্যিই হৃদয় ভারী হয়ে আসে।
এক সময় নিজের জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি ঢাকায় একটি বাসায় কাজ করতেন। ছোট ছোট স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—হঠাৎ একদিন সেই বাড়ির ছাদ থেকে তাকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। সেই ভয়াবহ ঘটনার পর দীর্ঘদিন অসহ্য নির্যাতন ও কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে তাকে। চিকিৎসার অভাব আর জীবনের কঠিন বাস্তবতার কারণে আজ তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী।
বর্তমানে তিনি আর কোনো কাজ করতে পারেন না। জীবনের সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, এই পৃথিবীতে তার আপন বলতে কেউ নেই। একাকীত্ব আর দারিদ্র্য যেন তাকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ ঘরও নেই তার। এমন কি বোন টি গরু-ছাগলের সাথেই থাকতে হয় তাকে।
সংসারে নেই কোনো উপার্জনের পথ। প্রতিদিন দুবেলা ঠিকমতো খাবার জোটানোও তার জন্য অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসুস্থ শরীর আর ভাঙা মন নিয়ে মানবেতর জীবন পার করছেন এই অসহায় বোনটি।
আমরা “ফেলে আসা স্মৃতি ফাউন্ডেশন” এর পক্ষ থেকে তার পাশে দাঁড়ানোর ছোট্ট চেষ্টা করেছি। কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও সামান্য সহায়তা তুলে দিয়েছি তার হাতে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই সামান্য সহযোগিতা তার দীর্ঘ কষ্টের তুলনায় খুবই ছোট।
তাই আজ সমাজের সকল মানবিক ও বিত্তবান মানুষের কাছে আমাদের আকুল আবেদন—আপনারা সবাই এই অসহায় বোনটির পাশে দাঁড়ান। আপনাদের সামান্য সাহায্য হয়তো তার জীবনে একটু স্বস্তি এনে দিতে পারে। হয়তো একটি নিরাপদ আশ্রয়, একবেলা খাবার কিংবা বেঁচে থাকার নতুন সাহস দিতে পারে তাকে।
মানুষ মানুষের জন্য—এই বিশ্বাস থেকেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আসুন, আমরা সবাই মিলে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাই। সমাজের অবহেলিত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার সুন্দর উদাহরণ তৈরি করি।
আপনাদের ছোট্ট সহযোগিতাই হতে পারে একজন অসহায় মানুষের নতুন করে বেঁচে থাকার প্রেরণা।
সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।
ধন্যবাদ সবাইকে। ❤️
— ফেলে আসা স্মৃতি ফাউন্ডেশন