×
একদিকে সংসারের দায়িত্ব, অন্যদিকে মেয়ের ভবিষ্যৎ—সবকিছু একা হাতে সামলাতে গিয়ে তিনি আজ ক্লান্ত, অসহায়।

আজ আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম ভারত বর্ষের শেষ সীমানায় হাকিমপুর তারালি সীমান্তে গ্রামে সমাজের এক অবহেলিত, অসহায় পরিবারের কাছে। ছোট্ট একটি পরিবার—একজন মা আর তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে তাদের জীবন সংগ্রাম। মেয়েটির বাবা অনেক আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তারপর থেকেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছেন এই অসহায় মা।


একদিকে সংসারের দায়িত্ব, অন্যদিকে মেয়ের ভবিষ্যৎ—সবকিছু একা হাতে সামলাতে গিয়ে তিনি আজ ক্লান্ত, অসহায়। তাদের থাকার ঘরটি খুবই ছোট এবং জরাজীর্ণ। প্রতিদিন দুবেলা পেট ভরে খাবার জোটানোও যেখানে কঠিন, সেখানে মেয়েটির লেখাপড়ার খরচ চালানো যেন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।


মেয়েটি বর্তমানে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। খুব মেধাবী এবং স্বপ্নবাজ একটি শিশু। সে পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হতে চায়, মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে চায়। কিন্তু অভাবের নির্মম বাস্তবতা তার স্বপ্নগুলোকে প্রতিনিয়ত থামিয়ে দিতে চাইছে। স্কুলের বেতন, বই-খাতা, পোশাক—সবকিছুর অভাবে তার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম।


আমরা “ফেলে আসা স্মৃতি ফাউন্ডেশন” এর পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর ছোট্ট চেষ্টা করেছি। কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং সামান্য আর্থিক সহায়তা তুলে দিয়েছি তাদের হাতে। আমাদের এই সামান্য সহযোগিতায় তাদের চোখে যে স্বস্তির হাসি দেখেছি, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।


কিন্তু সত্যি বলতে, শুধু একদিনের সাহায্যে এই পরিবারের কষ্ট দূর হবে না। তাদের প্রয়োজন নিয়মিত সহায়তা, ভালোবাসা এবং সমাজের মানবিক মানুষের সহযোগিতা। আমরা সবাই যদি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী একটু একটু করে এগিয়ে আসি, তাহলে হয়তো এই অসহায় মা ও তার মেয়েটির জীবন বদলে যেতে পারে।


আপনাদের সামান্য সাহায্য হতে পারে একটি শিশুর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার শক্তি, একটি পরিবারের দুবেলা খাবারের নিশ্চয়তা, কিংবা একজন মায়ের মুখের হাসির কারণ।


আসুন, মানবতার হাত বাড়িয়ে দিই। সমাজের অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াই। কারণ মানুষ মানুষের জন্য।


আপনাদের সকলের কাছে বিনীত অনুরোধ—যে যেভাবে পারেন, এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ান। আপনার ছোট্ট সহযোগিতাই হয়তো তাদের জীবনে নিয়ে আসবে নতুন আশার আলো।


ধন্যবাদ সবাইকে।

— ফেলে আসা স্মৃতি ফাউন্ডেশন ❤️